শেষ চিঠি, তবুও ভালোবাসবো

শেষ চিঠি,তবুও ভালো’বাসবো

ইমরান হোসাইন

কল্পনা, তথাপি তোমাকে আমার করে পাবার স্বপ্ন যেন পিছু ছাড়ে না । সেই কল্পনায় তোমাকে নিয়ে দিগন্ত’পানে অমোঘ যাত্রা ।সে পথে গান হয়,কবিতা হয়,মাঝেমধ্যেই মৃদু হাওয়া’য় তোমার চুল মেতে উঠে আনন্দ নৃত্যে । বৃষ্টি হয়, তবুও যে দুঃখ ঝড়ে’না দেহ থেকে? স্মৃতির ভেলায় আবৃত আকাশ দুঃখ মোর নিত্যদিনের সংসার । আচ্ছা তুমি কি বলতে পারো ভালোবাসা’য় কি শুধু দুঃখ হয়? সুখ কি নেহাত কল্পনা?

তবে আমার আমিতে তুমি চিরদিন’ই সুখ’ সর্বসুখ।

আচ্ছা…

সর্বসুখ কেন বলি বা বলছি সেটা কি তুমি জানো?
জানো”না তাই নাহ্ ? না জানা টা-ই স্বাভাবিক ।
মেঘ যেমন দূর আকাশ থেকে ধেয়ে আসে মাটির বুকে । তাদের কি ছুটে আসা তাই না ?

মেঘের নিয়মটা মেনে যদি সকল ভালোবাসা চলতো তাহলে সব ভালোবাসায় এমন ছুটে চলতো, ধেয়ে আসতো প্রতিক্ষার অন্ত টানতে।

তোমার নামে যে সন্ধ্যা নামতো সেটা এখনো বহমান । তবে তুমিটা আর নেই ! আচ্ছা তুমি ছিলে’ই বা কবে ? কখনো কি ছিলে ? থেকেছো কখনো ? দেখেছো কখনো ?

এখন রাতের দৈর্ঘ্য’টা অনেক। দিনের আলো আমি স্পর্শ করাতে আপারি না আমার গায়ে । চশমা’র ফ্রেম সরিয়ে সরাসরি আর এই অমৃত জলজ্যান্ত প্রকৃতি দেখা হয় না । আর ঘ্রাণ নেয়া যায় না ফুটন্ত গোলাপের । গোলাপের সর্বাঙ্গ জুড়ে এখন তীক্ষ্ণ কাঁটা । যেকোনো সময় ওরা ঝড়ে যায় আর পঁচে গিয়ে মাটিকে ভালোবেসে মিশে যায় মাটির বুকে। সেই ঘ্রাণ নিতে গেলেই আমি প্রাচীন প্রাচীরে ঠেকে যাই। চোখের অগ্রভাগে যেই মসৃণ কাচ সেটা সরিয়ে নিলে অদূরের আকাশ ভীষণ অন্ধকার, কুয়াশা যেন আমায় ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে । অথচ কল্পনায় তুমি কতটা কাছে, সুস্পষ্ট দেখা যায় তোমায়, হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় ।

বৃষ্টি হলেই চায়ের সঙ্গে তোমায় মনে পরে, সদ্য ভেজা স্তব্ধ আমি । তোমার সঙ্গে যে গল্প’টা ছিল সেটা চায়ের ধোঁয়ার সঙ্গে উড়ে যায় আকাশে ক্ষানিকটা পরে’ই বৃষ্টি হয়ে ফিরে আসে অলিন্দে । চা’য়ের সঙ্গে গল্প হয়,দেখা হয় এই শহরের ব্যস্ততা, সবার ছুটে চলা, সব শূন্য রেখে তোমার চলে যাওয়া’র গল্প বলতে বলতে ধোঁয়া হয়ে আমার উড়ে যাওয়া ।

এখন’তো তুমি মানেই সহসা মেঘ’ তোমার প্রত্যাবর্তন হয়, তবে ঘড়ির কাঁটার উল্টোদিকে, যে কোন সময় ধেয়ে আসো । তোমার আসাযাওয়া দেখতে দেখতে আমার বিস্তর রাত কাটে । আমি আর সকাল দেখি না, শিশিরে ভিজি না ; ঘোর অন্ধকারে সেই কবে হরিয়ে ফেললাম তোমায়, আমি এখনো প্রতিক্ষায় থাকি আমার পাওয়া না পওয়ার শত ভীরে তুমি পূর্ণতা হয়ে ফিরবে । তবুও আমি আছি, ছিলাম, থাকবো
নিরবে, নিঃস্বার্থ অনন্ত ভালোবাসার প্রদ্বীপ হয়ে৷
ভালোবাসা যার জীবনে শেষ , উপেক্ষা তার জীবনের প্রদীপ ”
দেখেছ ?

আমি কত বোকা ?
কে’উ কি ফিরবে বলে চলে যায় ? আমি এটা ভুলে গিয়েছিলাম যে প্রিয় মানুষেরা যতো কাছে থাকতে জানে তার চেয়েও দূরে অদূরে যেতে পারে তারা ।
“আমাদের দেখা হয় না কখনো’ই আমরা দুইজনেই দিগন্তসীমান’র ওপারে”
সুতো কাঁটা ঘুড়ির মতো যদি কখনো মেঘে ভাসতে – ভাসতে বকুল ফুলের মতো ঝড়ে যাই এই বাংলার মাঠে, তবে যত্নে রেখো প্রযত্নে রেখো মোরে। যদি না রাখো তোবে নদীর বুকে ছুঁড়ে ফেলে দিও দুঃখ হয়ে ভাসবো ।

যদি দেখাটা হয়ে যায় জীবনের প্রান্তে দুঃস্মৃতি’র সীমান্তে ।তবে তোমার নীলচে হয়ে যাওয়া কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে ভালোবাসি বলে দিও একবার। একবার হাত’টি ধরতে দিও – একবার না’হয় সব বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে আঙ্গুল গুলো হারাতে দিয়ো তোমার খোলা চুলে । আবার না’হয় হারিয়ে যেয়োতুমি।

পুনরায় হারানোর আগে একবার আমার চোখের মধ্যে হারিয়ো তুমি, আমাকেও হারাতে দিয়ো তোমার চোখে ।

“ যেন জনম জনম দুইজোড়া চোখে দুটি চাতক প্রাণ বন্দি হয়ে থাকে গভীরভাবে। ততটা’ই গভীর
যতটা গভীরভাবে আবদ্ধ হলে এক জীবনে বিচ্ছেদের ব্যথা গুঁড়িয়ে ফেলা যায় অনায়াসেই ”

উৎসর্গ
প্রিয়-শ্যামলতা

Leave a Comment